মাঝরাতে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়িমরি করে উজির সাহেব দৌড়ে বিছানা থেকে পালিয়ে ঘরের বাইরে চলে গেলেন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তার পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলো কি হয়েছে তা জানার জন্য।
পেছনে অনেকগুলো মানুষ দৌড়াচ্ছে দেখে উজির সাহেব “ও বাবাগো, ওরে মাগো, আমারে বাঁচাও, আমারে বাঁচাও” বলে আরও জোরে দৌড়াতে লাগলেন। দৌড়াতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে উপায় না দেখে রাস্তার পাশে নোংরা ময়লা আবর্জনায় ভরপুর একটা ডোবাতে গিয়ে ঝাঁপ দিলেন।
পরিবারের লোকজন যখন উজির সাহেবকে ডোবা থেকে উদ্ধার করলেন, ততোক্ষণে উজির সাহেবের পুরো শরীর ময়লা দূর্গন্ধে একাকার। শরীর থর থর করে কাঁপছে। মুখ দিয়ে কোন কথা বলতে পারছেন না। কেমন যেন গোঙানির মতো শব্দ করে যাচ্ছেন।
দ্রুত পরিস্কার করে উজির সাহেবকে নিয়ে যাওয়া হলো হেকিমের কাছে। হেকিমের চিকিৎসায় প্রায় দুই ঘন্টা পর উজির সাহেব স্বাভাবিক হলেন কিছুটা। কি ঘটেছিলো জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই এতদিন যে উজির সাহেব নিজেকে রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি দাবী করতেন, সে উজির সাহেব চিৎকার দিয়ে বলা শুরু করলেন- “খোদার কসম, আমি সবার প্রতি জুলুম করেছি, আমি মোটেই কারো কাছে প্রিয় নই। সবাই আমারে ঘৃণা করে, ঘৃণা…। ও বাবাগো, ওরে মাগো, আমারে বাঁচাও….।”
কেউই কিছু বুঝতে পারলো না। হেকিম উজির সাহেবকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে দিলেন।
টানা তিনদিন বেঘোরে ঘুমিয়ে জেগে উঠার পর জানা গেলো- সে রাতে উজির সাহেব স্বপ্ন দেখছিলেন- তিনি একটা জনসভায় বক্তৃতাকালে নিজেকে যখনই সবচেয়ে জনপ্রিয় দাবী করলেন, সাথে সাথেই জনগণ তাঁকে ধরে রশি দিয়ে হাত পা বেঁধে গলায় ছুরি বসিয়ে কুরবানী দিতে শুরু করলেন, আর পাশ থেকে কয়েকজন বলাবলি করছিলো- সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটিকেই কুরবানী করতে হয়। আরেকজন ফিসফিস করে বললেন- পশুটি আসলেই দেখতে অনেক নাদুসনুদুস…।
বনের পশু, মনের পশু, জনগণের পশু সবাইকেই কুরবানী করুন।
ঈদ মুবারক।
Tariqul Islam's Fun Page Keep life happy with worship