পরিবেশ পরিচিত সমাজ

একটা সময় ছিল, যখন পাড়ায় পাড়ায় কানাঘুষা হতো । বউ ঝিয়েরা পাড়া বেড়াত, সন্ধ্যায় মহল্লা গল্লিতে সালিশ বসতো । কেউ ন্যাড়া হতো কারো হতো ভর্ৎসনা । তবুও পাড়ায় পাড়ায় সম্পর্ক ছিল, এক সুতোয় বাঁধা বাংলাদেশ । মরণে চার কাঁধ সে হিন্দু হোক কিংবা মুসলিম অথবা তাবৎ ধর্মের শবদেহ । সবাই নিশ্চিতে হেঁটে যেতো ঠিকানায় । ওটা অতীত বলা যায়; যেখানে সম্পর্কগুলো সকল স্তরে দাঁড়িয়ে জানান দিতো মানুষ ও মানুষে এক দেশ এক ঘর, মাঝখানের বেড়ার ফাঁক দিয়ে জোৎস্না আর সূর্যের ভাসা ও ডোবা ।

পৃথিবীর বয়স বেড়েছে তার চেয়েও বুড়িয়ে গেছে স্বদেশ । প্রাণের সেই স্রোত আর নেই । তারণ্যের সকল উন্মাদনা ঝিমিয়ে  গেলে যেমন ভর করে সীমিত জগৎ তারই আয়না এখন সমাজ । প্রত্যেকের পৃথক পৃথিবী । জীবন, মৃত্যু ও আকাশ সব কিছু আলাদা এক একটা অনিকেত প্রান্তর । পাড়ায় পাড়ায় আরো পাড়া প্রত্যেকটা পাড়া যেন লুকিয়ে থাকা দ্বীপ; স্থল ও জলের বাইরে শুধুই আকাশমুখী সম্পর্ক; একদম সরাসরি আকাশমুখী । সেই গলি, মহল্লা ও জায়গা পাথর্ক্য শুধু উচু তারও উচু পাথরবাস, বেড়া বিতাড়িত হয়ে কংক্রিট সকল শব্দের আকড়ে ধরা থাবা । এসময়ে রুমে রুমে সংসার সাউণ্ডপ্রুফ জীবন, কেউ কেউ কারো হয় তবে সবাই এখন নিজের । ভাত খায়, আয়ু কিনে বেঁচে থাকে পরিবারের জন্য । বাবা হয়, মা হয় তারপরও আশ্রমের জন্ম হয় সর্বত্র । এটা সভ্যতার নিদর্শন । এখন সম্পর্ক শুধুই লৌকিক-মুঠোফোন, প্রজনন কিংবা অবসর বিনোদন । মানুষ এখন কাগজের সংজ্ঞায় প্রাণের রং বদলায়

চুপ থাকার অর্থ নাগরিক । স্লোগান অর্থ উদ্দেশ্য । বেঁচে থাকাকে এখন শুধু অতিবাহিত সময় বলা যায়

About আবেদিন খান

Check Also

ফ্রিলান্সিং- মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুনদের স্বপ্নভঙ্গের নতুন ভাইরাস।

ফ্রিলান্সিং- মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুনদের স্বপ্নভঙ্গের নতুন ভাইরাস। দায়ী কে? . পুরো লেখাটি না পড়ে, আপনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *