শিশুরা ঝগড়া/ মারামারি কেন করে?

ভাইবোনের মাঝে ঝগড়াঝাঁটি/ তর্কাতর্কি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, “এর প্রধান কারন হচ্ছে ভাইবোনদের মাঝে প্রায় সময়ই সব বিষয় নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে, যে বিষয়ে হয়ত ওরা নিজেরাও সচেতন নয়।” যেমন; খেলনা, খাওয়া, মা বাবার আদর ভালবাসা, যেই এক জন ঝগড়ায় হেরে গেল ভাবে তার সাথে অবিচার করা হয়েছে। তবে যে কারনেই ঝগড়াঝাঁটি/ তর্কাতর্কির হোক না কেন এর কিন্তু ভাল দিকও আছে- – – এটা নিশ্চিত করে যে ওদের মধ্যে এমন কিছু নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে যা কিনা সমাধান হওয়া দ্রুত প্রয়োজন কারন, আবার বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যা নিয়ে ঝগড়া চলছে, দ্বন্দ্ব কিন্তু তানিয়ে নয়। তর্কাতর্কির আরও একটা পজেটিভ দিক হচ্ছে, পরিবারই শিশুর জন্য প্রথম সামাজিক মহল, এখান থেকেই শিশুরা শেখে শত্রুতা এবং মিত্রতা এবং সামাজিক আইন কানুন, এরপর শেখে স্কুল ও বন্ধুদের কাছে থেকে। সমাজের সব ধরনের মানুষদের সাথে কীভাবে ইন্টারঅ্যাকশন করতে হবে সেই গুনগুলো শেখে।
.
এই হয়ত দেখলেন, বাচ্চারা একসাথে বসে খেলছে বা টিভি দেখছে, আপনি নিশ্চিন্ত মনে নিজের কাজ নিয়ে বসলেন, একটু সময় যেতে না যেতেই শুরু হলো হৈচৈ চিৎকার চ্যাঁচামেচি এরপর মারামারি ধরাধরি। স্বাভাবিকভাবেই আপনি ছুটে আসবেন সাথে সাথে তার মিমাংসা করতে বসে যাবেন নিজেই, এতে কিন্তু আসল বিষয় অমীমাংসিতই রয়ে যাবে – -কারন বাচ্চারা নিজেরা নিজেদের জীবনে কোনো সমস্যা হলে তা কীভাবে মিমাংসা করতে হয় তা শিখবে না। আবার আপনি যদি এসব নিয়ে একেবারেই মাথা না ঘামান, তাহলে দেখা যাবে একজন হয়ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যজনের প্রতি অন্যায় করছে।
.
তাহলে কি করবেন?
১। দম নিবার সুযোগ দিনঃ
ঝগড়াঝাঁটি হলে বাচ্চারা মুষড়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। সেই মুহুতে সবাইকে যদি এক সংগে জিজ্ঞেস করেন, যে কি নিয়ে ওদের দ্বন্দ্ব বাঁধল, তাতে দেখা যাবে ওরা সেটার বর্ণনা দিতে গিয়ে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়বে— – – তার চাইতে আগে ওদের দম ফেলবার সুযোগ দিন। ওদের একটু ঠাণ্ডা হয়ে নিতে বলেন, যাতে যা ঘটেছে তা যেন ঠিকমতো বুঝিয়ে বলতে পারে।
.
২। বাস্তবসম্মত নিয়ম ঠিক করুনঃ
সঠিক এবং বাস্তবসম্মত নিয়ম তৈরি করার অর্থ হচ্ছে যেমন; যখন বাচ্চারা বক্তব্য পেশ করবে— – – কোনো রকম অভাব্য শব্দ উচ্চারণ করতে পারবে না, চেঁচিয়ে কথা বলা যাবে না, একজন কথা বলার সময় অন্যজন মাঝখানে কথা বলতে পারবে না— – – যাতে সবাই ঠিকমতো তাদের বক্তব্য পেশ করবার সুযোগ পায়, কেউ কাউকে আক্রমণ করে কথা না বলতে পারে।
.
৩। সবাইকে সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দিনঃ
প্রতিটি বাচ্চাকে সমান সুযোগ দিন তার নিজের বিষয়টা গুছিয়ে বলার জন্য। এতে আপনি পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারবেন আসল ঘটনা কি এবং কে কীভাবে অন্যজনের মনে আঘাত দিয়েছে বা অন্যায় করেছে তা ওদের কাছেও সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, এতে বাচ্চারা এও শিখবে যে সমস্যা হলে, সেটা সমাধানের জন্য অন্যের অভিযোগও শোনা প্রয়োজন।
.
৪। সমস্যার সমাধান ওদের খুঁজে নিতে উৎসাহ দিনঃ
বাচ্চারা যখন বুঝতে পারবে যে কি নিয়ে ওদের মাঝে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তখন সমাধানটাও খুঁজে পাবে তা আশা করা যায়। হয়ত কাজটা খুব সহজ কিবা খুব দ্রুত সমাধান হবে এমন নাও হতে পারে- – আপনাকে হয়ত তখন উৎসাহ দেয়ার জন্য এবং সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে, যাতে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে পায়। তবে সুখের বিষয় হচ্ছে, এতে করে মাথা খাঁটিয়ে একেক জন যেমন একেক রকমের সমাধান তৈরি করতে পারে, তেমন নিজের প্রতি ওদের আস্থা বাড়বে।
.
৫। শিশুকে দোষ স্বীকার করতে এবং ক্ষমা চাইতে শিখান-
ছোট বেলা থেকেই শিশুকে শিক্ষা দিন কোনো ভুল হলে সেটা স্বীকার করলে ঝগড়াঝাঁটি এবং তর্কাতর্কি আর বাড়বে না এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া মহৎগুন। আপনার দায়িত্ব, শিশুকে শেখান কীভাবে নিজের ভুল স্বীকার করতে হয়। কারন, শিশুরা অনুকরণ প্রিয় বড়দের যা করতে দেখে তাই শেখে। আপনি যদি শিশুর প্রতি কোনো অন্যায় আচরণ করে থাকেন, তাহলে সংগে সংগে ওর কাছে সেটা স্বীকার করুন- – -এভাবেই শিশুদের সবচেয়ে সহজে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারবেন।
.
.
ক্রেডিট: ( তানিয়া হাসানঃ কাউন্সেলিং সাইকোলজিষ্ট)

About B@ngl@desh1

Check Also

এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই!

একজন প্রবীণ মহিলা বাসে উঠে বসল। পরের স্টপে একজন শক্ত সমর্থ যুবতী উঠে এসে বৃদ্ধা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *