জীবনের পথে চলতে থাকা, দূরত্বকে পার হয়ে এগিয়ে যাওয়া।

গত কয়েক বছরে ধরে বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ১০ লাখ টাকা পাওনা ছিলাম। সেটা গত ৯ মাস আগে  এসে ৪ লাখ টাকা এখনো পাওনা আছে। আমি আবারো বলছি বন্ধু-বান্ধবদের কাছে। কোন আত্নীয়-স্বজনের কাছে এক টাকা ও পাওনা নাই।

দেশের বাহিরে আশার সময় যারা টাকা দিয়ে দিবে বলেছিলো তাদের নক করেছি। আর যারা টাইম চাইছে তাদেরকে সময় দিয়েছি। খোদার কসম আমি ১জনকে ও ফোন করে বা দেখা হওয়ার পর টাকার কথা বলি নাই।

কিন্তু আমার কথা হলো আমি যখন তাদেরকে দেশের বাহিরে যাবো বলেছি, তখন তাদের এটা ও বলেছি যদি তাদের হাতে টাকা আসে, যেন আমার ব্যাংকে বা বিকাশে দিয়ে দেয়। কারণ আমি অনলাইনে তেমন থাকবো না এবং আমি পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকবো, তাই অনেক সময় ম্যাসেজ দেখলে ও উত্তর দেয়া হবে না।

প্রায় ৬ বছর পর সুইডেন আসছি, সো এখানে আমার অনেকগুলো কাজ করতে হবে, এবং এরপর ১৫ থেকে ২০ দিনেরে মধ্যে কাজ শেষ করে দেশে ফিরে আসবো। আর যদি ভালো কোন চাকরি পেয়ে যাই, তাহলে হয়তো আগামী তিন বছর আর দেশে আসবো না। এটা সময় বলে দিবে। সবথেকে বেশি ব্যস্ত থাকবো নিজের কম্পানির আরো ডালপালা-শাখা প্রশাখা বিস্তার করবো। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ যদি চায় নিজের একটা বাংলো বাড়ি হবে সুইডেনে, যেটা আনুমানিক খরচ প্রায় ১০ কোটি টাকা। শহর থেকে একটু দূরে, প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে। যেটা উপসালা থেকে ৪২ কিলোমিটার। একটা নীরিবিলি যায়গা। আমি এইসব ব্যাপার কারো সাথে শেয়ার করি না এবং এগুলো তেমন কোন সোআপ ও করি না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে অনেক কিছু করি। মাঝে মাঝে আবেগে কিছু সোআপ করে ফেলি, কিন্তু সেটা অন্য কাউকে ছোট করে না। সেটা অবস্থার কারণে হয়। মানুষতো ভুল হয়েই যায়, মাঝে মাঝে আবেগ দেখিয়ে ফেলি। যেটাকে বলা হয় ”সোআপ”।

এটার পাশাপাশি আমাদের লাকসামে ও নিজেদের একটা দুইতালা বাড়ি আছে, সেটার কাজ ও ধরেছি। আমরা ভাই-বোন ৪ জন। তাই আমাদের প্ল্যান মিনিমাম ৬ টা বা ৭টা রুম এর বাসাটা আপগ্রেড করবো। এখন বর্তমানে ৪ রুমের বাসা এটা। এগুলো একান্তই আমাদের ৩ ভাইয়ের ইচ্ছা। যেগুলো কখনো ঘুনাক্ষরে ও কারো সাথে শেয়ার করি না, কিন্তু এখন শেয়ার করছি কারণ কাজগুলো হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ।

“জীবনের পথে চলতে থাকা, দূরত্বকে পার হয়ে এগিয়ে যাওয়া”

জীবন মাঝে মাঝে আমাদের এমন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে যেখানে আমাদের অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ একসাথে মিশে যায়। আমার জীবনের এই অধ্যায়টা শুরু হয়েছিল সুইডেনের এক শহরে, যেখানে আমি আমার বউ আর আমাদের একমাত্র মেয়ের সাথে একটা ছোট্ট পরিবার গড়ে তুলেছিলাম। সেই সময়টা ছিল অনেক কিছুর শুরু—একটা নতুন জীবনের শুরু, আমাদের পরিবারের নতুন অধ্যায়ের শুরু। কিন্তু PR পাওয়ারপর আমি প্রায় ৬ বছর আগে সুইডেন ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসি। কেন যেন মোহটা আমার কেটে গিয়েছিলো। হঠাত করে ধমের প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো। আমি সুইডেনে থাকলে এবং কাজ করলে ধমটা ঠিকমতো পালন করতে পারছিলাম না।

এই ৬ বছর আমি সুইডেনে যাইনি। আমাদের মধ্যে তেমন কোনো বড় প্রবলেম হয়নি, কারণ আমরা দুজনেই জানতাম যে প্রেম আর বোঝাপড়া যদি ঠিক থাকে, তাহলে দূরত্বও কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের মেয়ে ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সংযোগ। সে আমাদের দুজনকে একসাথে রাখতো, যদিও আমরা দুটো ভিন্ন দেশে ছিলাম।

কিন্তু জীবন কখনোই একঘেয়ে হয় না। সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। আমার কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে আসছে। আমার মেয়ের স্কুলে কিছু কাজ আছে, আর আমার নিজেরও কিছু অফিসিয়াল কাজ আছে যেটা সুইডেনে গিয়েই করতে হবে। আমার যে কোম্পানিটা সুইডেনে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, সেটার কিছু কাগজপত্র আপডেট করতে হবে, এবং ব্যবসাটা আরো বাড়াবো। দেশে আরো কিছু নতুন টিম মেম্বার এড করবো। ইনশাআল্লাহ। এই সব কাজ শেষ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবো। আর যদি ভালো কোন জব পেয়ে যাই, যেমন: ম্যানেজার বা কন্ট্রোলার তাহলে হয়তো আপতত আর ব্যাক করা হবে না। মিনিমাম ৩ বছরের আগে আর ব্যাক করবো না।

আমি সুইডেনে না যাওয়ার একটা বড় কারণ হলো আমার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ সেখানে খুব কম পাওয়া যায়। কিন্তু যদি আমি কষ্টের কাজ করি, তাহলে কাজের কোনো অভাব নেই, আর মাসে আমি মিনিমাম ৫ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আমি বাংলাদেশে এখন এর থেকে ও বহু গুণ ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনে এখানেই আমার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি।

আমার সুইডেনে না যাওয়ার আরো একটা বড় কারণ আছে, যেটা আমি এখানে ওপেন করবো না। কিন্তু আমার কিছু কাছের বন্ধুরা সেটা জানে। তারা পর্যন্ত জানলে হলো, এটা নিয়ে এতো বলার কিছু নেই। মানুষ কখনো পুরোপুরি সবকিছু এই দুনিয়াতে পায় না। না হয় আমার বেলায় সেটাই হলো। কিন্তু আমার বউ প্রতি বছরই বাংলাদেশে আসে একবার বা দুইবার করে। আমাদের পরিবারের বন্ধন এই দূরত্বের মধ্যেও অটুট আছে।

আমি মনে করি, জীবন হলো একটা বিশ্বাসের খেলা। আমাদের কখনো হার মানলে হবে না, কারণ প্রেম আর বোঝাপড়া যদি ঠিক থাকে, তাহলে দূরত্বও কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

এতো কিছু লেখার অর্থ হলো আমি বলে আসলাম বন্ধুদের হাতে টাকা আসলে যেনো আমার ব্যাংকে বা বিকাশে দিয়ে দেয়। তারপর সেটা না করে তারা আমাকে বার বার ফোন দেয়। কেন? কি কারণে? দেশে আসলেতো দেখা হবে, কথা হবে। ইনশাআল্লাহ। সো একটু ওয়েট কর প্লিজ।
.
#আদিরকথা #আদিরগল্প

About B@ngl@desh1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *