How did you like the story or movie of Dunki’ movie?

আমি ‘ডানকি’ মুভির স্টোরি বা মুভি কেমন লাগলো… এই বিষয়ে রিভিউ লিখছি না। আমি আমার স্টোরি লিখবো। মুভিটা আমাকে কেনো এভাবে মুগ্ধ করেছে, ব্যাপারটা নিয়ে লিখবো।

২০০৪ সালে ‘Veer-Zaara’ যখন রিলিজ হলো, তখন আমি নিতান্তই ছোট মানুষ। ক্লাস সিক্সে পড়ি… মুভির ডেপথ বুঝি নি। বড়দের এই সিনেমা নিয়ে কথা বলতে দেখতাম, সিনেমার গান গাইতে দেখতাম।
আমি কলেজে উঠার পর এক বৃষ্টির রাতে এই মুভি দেখলাম… দেখলাম বললে ভুল হবে, I lived through it.
এর পর থেকে ‘Tere Liye’, ‘Maim Yahaan Hoon Yahaan’, ‘Do Pal’ গানগুলো আমার প্লে লিস্টে থাকে… মন খারাপ হলেও থাকে, ভালো হলেও থাকে। মুখর জনারণ্যে নির্জনতা এনে দেয়…!

তবে সত্যি কথা কি, ‘Veer-Zaara’ কে যদি যশ চোপড়া ২০২৪ সালে বানাতেন, কিংবা মদন মোহনের কম্পোজ করা গানগুলো যদি ২০২৪ এ রিলিজ হতো, কেউ রিলেট করতে পারতো না…. এমন প্রেম আসলেই আর নেই।
প্রেমে অপেক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই, চিঠি নেই, কবিতা নেই…!

যে এই মুহূর্তে প্রেমে মজে আছে, সে ঐ ভয়ানক সুন্দর প্রেমের সাথে চাইলেও কোনভাবে রিলেট করতে পারবে না… এটা তার দোষ না।

‘ডানকি’ দেখা শেষে চোখের কোণে পানি নিয়ে একটা কথা’ই মাথায় এলো, “They don’t make movies like these anymore…!”

আমরা ৯০ এর জেনারেশনের মানুষরা সারাদিন নিজের পুরোনো দিন মিস করে ফেসবুক ভর্তি করে রাখি… নতুন জেনারেশন বরবাদ হয়ে গেলো বলে রব তুলি!
কিন্তু ঠিক’ই সিনেমা হলে ‘কবির সিং’ কিংবা ‘কেজিএফ’ টাইপ মুভি দেখি পপকর্ণ চিবাতে চিবাতে।

দোষ কারো না আসলে… দোষটা সময়ের।

এই সময়, সুন্দর সব কিছু কেড়ে নিয়েছে অজান্তেই।

এনিম্যাল পার্কের ভিড়ে ‘ডানকি’ আমার কাছে সেই পুরোনো স্নিগ্ধ শাহরুখের ফিরে আসা… পুরোনো কষ্টে বুক মোচড়ে উঠা…!
‘ডানকি’ আমার জন্য সুন্দর একটা কবিতা।

মুভিটা রিলেট করতে গেলে সিনেমা হলে বসে রিলেট করা যাবে না… তবে একদিন প্লেনে চড়ে বসলে ঠিক যে মুহূর্তে প্লেনটা ঢাকা এয়ারপোর্ট ছেড়ে চাকা গুটিয়ে উপড়ে উঠে যায়, সেই মুহূর্তে মুভিটাকে প্রচন্ড রকমের রিলেটেবল মনে হবে।

এম্বেসির ভিসা কাউন্টারে যখন কনস্যুলেট যখন জিজ্ঞেস করবে, “How much does your father make per year…??”

ঠিক তখন মুভিটাকে প্রচন্ড রিলেটেবল মনে হবে।

মুভিতে শাহরুখের মনোলগে ছোট্ট একটা লাইন আছে, “তোমাদের দেশের ভিসা তো কখনোই বন্ধ ছিলো না… এক মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করলে কালকেই আমি ভিসা পাবো। ভিসা বন্ধ শুধু গরীবদের জন্য।”

এটা সবাই জানে, শুধু বলা হয়ে উঠে না। পঞ্চাশ-ষাট লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে না পারার কারণে যে ছাত্রটা বাইরের দেশে যেতে পারছে না, সে জানে… এই লাইনের সত্যতা। আর কেউ জানুক আর না জানুক…!

কেউ দেশ আনন্দে ছেড়ে যায় না… নিজের দেশ সবাই ছেড়ে গিয়ে বাইরে রাত দিন কষ্ট করে যায়, শুধু নিজের দেশে রেখে যাওয়া পরিবারের মানুষগুলো যেনো আনন্দে থাকতে পারে।

এই কষ্টটা যারা স্বীকার করে নিতে পারে, এই পৃথিবীতে তাদের চেয়ে সাহসী মানুষ আর কেউ নেই…!

এটাই আমার জন্য ‘ডানকি’।

থ্যাঙ্ক ইউ রাজকুমার হিরানী, থ্যাঙ্ক ইউ শাহরুখ খান।

Thanks for taking me back to the most beautiful time of my life…!

About B@ngl@desh1

Check Also

মানুষের ভালো লাগা গুলো খুবই রহস্যময়!

মানুষের ভালো লাগা গুলো খুবই রহস্যময়,এই রহস্যময় জগতে এখনো বয়সে তরুণ,কিছু সময় হলো আমি কৈশোরত্বীর্ণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *