বৈবাহিক বন্ধন একটি লোভনীয় অফার। আমরা একটু গভীরে চিন্তা করি, বিবাহ জীবনে যদি কোহ্যাবিটেশন অর্থাৎ সঙ্গমের কনসেপ্ট না থাকতো তাহলে প্রত্যেক পুরুষ কখনোই চৈত্রের ভর দুপুরে পরিশ্রম করে অন্য একটি মেয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন না। শুধু সঙ্গম নয় বরং সঙ্গমের মাধ্যমে সিমেন অর্থাৎ বীর্যপাত ঘটিয়ে আমরা অনাবিল প্রশান্তি লাভ করি, সাপোজ কোনভাবে এই অনাবিল প্রশান্তি যদি না থাকতো তাহলে কে বৈবাহিক বন্ধণে আবদ্ধ হতো? উত্তর- কেউ-ই না।
.
আমরা যাতে করে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই তাই ছোট্ট এই অনাবিল প্রশান্তির লোভ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিক থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে এই যে, মৃত্যুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা হিসেবে যেটাকে সিলেক্ট করা হয়েছে তার নাম ‘প্রসব যন্ত্রণা’। তারপরেও নারীরা জননী হতে চায়। এখানেও একটা লোভনীয় অফার দেয়া হয়েছে তাদের মস্তিষ্কে। নারীদের যদি বলা হয়- যাক ভালো হয়েছে তুমি কখনো মা হতে পারবে না। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে গেলে। ঐ নারী কি সত্যিই খুশি হবে? না। বরং প্রত্যেক নারীর জীবনের একমাত্র স্বাদ’ই হলো জননী হওয়া।
.
বিষয়টা আমার কাছে এক ধরনের রহস্য বলে মনে হয়। যারা তেলাপোকা দেখা ভয় পায়, যারা নরমালি প্রেমের ব্রেক’আপ টলারেট করতে পারে না, তারাও যন্ত্রণা ভোগ করে জননী হতে চায়। এনালাইসিসের একটু গভীরে যাওয়া যাক:-
.
কোরআনে কারীমে বৈবাহিক সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে~
সূরা রুমের ২১ নাম্বার আয়াতে বলা হলো- আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুগ্রহের সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছেন। কোরআন বিবাহিত জীবনকে দুটি শব্দে ব্যাখ্যা করেছে।
১) مودۃ ভালোবাসা।
২) رحمۃ অনুগ্রহ।
.
আর বাস্তবে দেখা যায় যে বিবাহিত জীবনের দুটি অংশ থাকে, একটি যৌবনের অংশ আরেকটি বার্ধক্যের। ব্যাপারটা মজার না? যৌবনকালে স্বামী স্ত্রী যদি কোন কারনে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্তও হয় তথাপি সহবাসের কারণে কিছুক্ষণ পরই একত্রে মিলিত হয়। উভয়ের যৌন চাহিদা পরস্পরকে বাধ্য করে মেলামেশার প্রতি। শুধু বিয়ের পরে না, বিয়ের পূর্বেও এই যৌনতার আসক্তির ফলেই আমরা বিবাহ করি। এজন্য কোরআন এক্ষেত্রে مودۃ বা পারস্পরিক ভালোবাসার শব্দ ব্যবহার করেছে। এর আর একটা অর্থ হলো বন্ধুত্ব। অর্থাৎ বন্ধুর সঙ্গে প্রেম।
.
কিন্তু, বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর স্বামীর আর স্ত্রীর প্রয়োজন পড়েনা, আর স্ত্রীরও স্বামীর প্রয়োজন পড়েনা। যৌন চাহিদা একদম কমে যায় বা থাকেই না। এই সময় নারীদের মেনোপেজ অর্থাৎ ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। মেজাজ খিটখিটে হয়, পৃথিবীর মতই নারীদের মাথা প্রচন্ড ঘুরতে থাকে সবসময়। কিছুই ভাল লাগে না। খাবারে অরুচি। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে শরীর দুর্বল, বাচ্চাদের মত আচরণ করা, নিজের লুঙ্গি পর্যন্ত ঠিক রাখতে পারে না। পরস্পরকে জড়িয়ে রাখার যে যৌন সম্পর্ক ছিলো এখন তা শেষ হয়ে গেছে। তাহলে বউকে কি ডিভোর্স দিতে হবে? স্বামীকে ফেলে রেখে চলে যেতে হবে? না।
.
এবার কোর’আন বলছে – স্বামী স্ত্রীর একত্রে মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে কোরআন رحمۃ বা অনুগ্রহ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ তখন একে অপরের প্রতি অনুগ্রহশীল হবে, দয়াশীল হবে।স্বামীকে এ কথা ভাবতে হবে যে, আমার স্ত্রী তার পুরো যৌবন আমার জন্য নিঃশেষ করে দিয়েছে, আমার সন্তানদের প্রতি লালন-পালনে কাটিয়ে দিয়েছে। প্রিয় মানুষটি এতটা বছর রান্না করে দিয়েছে আর আমি পেট পুরে খেয়েছি। এই মানুষটি কত রজনী আমার বুকের উপরে শুয়ে তার ফেলে আসা শিকড়ের কথা বলেছে। এর শেকড় এখন আমি। এককথায় যেভাবেই থাকুক এখন তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকতে হবে তাকে দূরে সরিয়ে দেয়া উচিত হবেনা।
.
এমনিভাবে স্ত্রীও ভাববে যে,স্বামী তার পুরো যৌবন প্রেম-ভালোবাসায় আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন, আমার সুখের জন্য, আমার সন্তানের জন্য জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। এই মানুষটি আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে অর্থ ইনকাম করেছে, এখন আমার উচিত স্বামীর খেয়াল রাখা,তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকা, তার লুঙ্গি ঠিক করে দেয়া। সবসময় তার পাশে থাকা।
.
কোর’আনের সৌন্দর্য দেখুন! দাম্পত্যজীবন বা বিবাহিত জীবন সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা শব্দটির সম্পর্ক যৌবনকালের সাথে। আর অনুগ্রহ শব্দটির সম্পর্ক বার্ধক্যের সাথে।