একজন মানুষ হাসতে হাসতে বাগান থেকে একটা ফুটন্ত গোলাপ ছিড়ে নিতে পারে।

ওয়েট…..।
একজন মানুষ হাসতে হাসতে বাগান থেকে একটা ফুটন্ত গোলাপ ছিড়ে নিতে পারে।
কিন্তু হাসতে হাসতে কেউ সুইসাইড করতে পারে না। প্রতিটি সুইসাইড কিংবা এটেম্পড্ টু কমিট সুইসাইড এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত কারণ থাকে। প্রতিটি কারণ সুইসাইডাল নোটে কেউ লিখেও যান না।

এথিক্যাল জায়গা থেকে ভাবতে গেলে, যে ব্যক্তি ডিসিশান নিয়েছে সে আর লাইফ কনটিনিউ করবে না কিংবা করতে পারবে না। সে যখন সুইসাইড করতে যায় তখন অন্যরা কেন তাকে বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করবে? যারা তাকে বাচিয়ে রাখতে চায়, তারা কি নিশ্চয়তা দিতে পারবে তার লাইফের কমপ্লিকেইটেড প্রবলেমজ্ তারা সলভ্ করে দিবে? যদি তারা না পারে, তাহলে কেন তাকে বাচিয়ে রেখে তার কষ্টগুলো প্রতিনিয়ত তিলে তিলে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা?

অন্যদিকে, পরিচিত কেউ সুইসাইড করলে আমরা মুখে যতই উহ্ আহ্ করি, পেছনে ঠিকই সুইসাইড এর কারণ হিশেবে নানা রকম রসালো কল্পকাহিনী প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
যে সুইসাইড করতে গিয়েও মরতে পারে নাই, তার লাইফের বাকী অধ্যায়ে প্রতিনিয়ত ফিশফাশ আর ব্যাঙ্গাত্বক কথা শুনতে হয়। কেউ তার সুইসাইডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের এবং সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন না।

আর সুইসাইড করতে যাওয়া ব্যক্তির যদি কোনরকম তারকা খ্যাতি থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। আমাদের মিডিয়াগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে কতো রস কষ মিশিয়ে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির বরাত দিয়ে কে কার আগে আপডেইট দিয়ে তাদের কাটতি বাড়াবে কিংবা টিআরপি বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে তারা কোনরূপ নীতি নৈতিকতার ধার ধারেন না।

সাউথ আফ্রিকান চিত্রগ্রাহক কেভিন কার্টার ১৯৯৪ সালে সুদানে দুর্ভিক্ষের সময়ে আলোড়নসৃষ্টিকারী একটি ছবি তুলেছিলেন। ছবিটিতে একটি হাড্ডিসার কৃষ্ণাঙ্গ বাচ্চাকে দেখা যাচ্ছিল, যে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ত্রাণশিবিরের উদ্দেশে যাবার চেষ্টা করছিল। তার অদূরে একটি শকুন বসে ছিল, শকুনটি ঐ শিশুর মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল মৃত্যুর পরে তার মৃতদেহ খাওয়ার জন্য। ছবিটি পুলিত্‍জার পদক জিতেছিল। কিন্তু কেউ শেষ পর্যন্ত জানতে পারেনি শিশুটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল, এমনকি কেভিন কার্টারও না; কেননা ছবিটি তোলার পরপরই তিনি স্থানটি ত্যাগ করেন। ছবি না তুলে বাচ্চাটিকে নিকটবর্তী ত্রাণশিবিরে নিয়ে গেলে শিশুটি হয়তো বেঁচে যেত — ছবিটি তোলার ঠিক ৩ মাস পরই তিনি এই হতাশায় ও অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেন!

অপেক্ষায় আছি আমাদের মিডিয়ার কর্তাব্যক্তিদের কবে এমন বোধদয় হবে, করে তারা আত্মহত্যা করবে…….।

 

ক্রেডিট: William Blake.

About আবেদিন খান

Check Also

তোমরা খুব অল্পই শোকর কর – সুরা মুলক।

ছেঁড়া টাকা আর সবার মত গোপনে চালিয়ে না দিয়ে বলে ফেলুন, টাকাটা ছেঁড়া আছে, দেখুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *