“কুন, ফায়াকুন” তিনি (সৃষ্টিকর্তা) হও বললেই সব হয়ে যায়। তাঁর জন্যে কোন কিছুই অসম্ভব নয়, বরং মুহুর্তেই সব সম্ভব। তার পর ও তিনি একটি মানুষ কিংবা একটি প্রাণি সৃষ্টি করতে একটা নির্দ্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। ম্যাচিউরিটির জন্য (প্রায়) ১০ মাস ১০ দিন সময় নেন। ভূমিষ্ট হবার পর তার বেড়ে উঠার জন্য পরিচর্যা করেন দীর্ঘ সময় নিয়ে। অথচ তিনি চাইলেই একজন পরিপূর্ণ মানুষ অথবা যে কোন প্রাণি সৃ্ষ্টি করতে পারতেন। কারণ, তাঁর সেই পরিমাণ পাওয়ার এন্ড ক্রিয়েটিভিটি সর্বদা বিদ্যমান।
অন্যদিকে তাঁরই সৃষ্ট জীব মনুষ্যকূলের মধ্যে খাস করে আমার পরিচিত বন্ধু মহলে এমন কিছু গ্রেট এক্সটেন্ট ক্রিয়েটিভ পারসন আছেন যারা কুন ফায়াকুন বললেই পয়দা হয়ে যায় শত শত কবিতা, উপন্যাস, ছোট গল্প, নাটক, ব্লা, ব্লা, ব্লা…..। সাহিত্যের যতগুলো শাখা আছে সবগুলোতেই তাদের রকেট গতিতে বিচরণ। পৃথিবীর তাবৎ প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিকদের মধ্য হতে হাতে গোনা দু একজনের নাম বলতে পারলেও তাঁদের দু একটি লাইন কোট করতে পারার সময় আমার বন্ধুদের নেই। তারা লেখালেখি অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মে এতটাই কমার্শিয়াল ব্যস্ততায় থাকেন যে, অন্যরা কে কি লিখেছে সেটা সর্বোচ্চ দু-তিন লাইনের বেশী হলে তা আর ধৈর্য ধরে পড়ার মানসিতা এবং সময় কোনটাই পান না। তারা এতটাই ক্রিয়েটিভ, এ্যাতোটাই ক্রিয়েটিভ- একটি লাইন পড়লে অবলীলায় দশ হাজার লাইন লিখে ফেলা তাদের জন্য কোন ব্যাপারই না।
গাল গল্পেও তাদের হার মানায় কে? তারা যে দু একজন কবি সাহিত্যিকের নাম মুখস্ত করতে পেরেছেন তাদের রচনার স্বাদ আস্বাদন না করেই নির্দ্ধিধায় বলে দিতে পারেন কোন লেখকের ব্যঞ্জনা কত সুস্বাদু। আড্ডায় কোন লেখকের কিংবা কোন লেখার প্রসংগ এলে তারা এমন ভাবে ফ্লোর নিয়ে বলা শুরু করেন যেন ওই লেখক কিংবা ওই বিষয়ে তার মত বিদগ্ধজন আর দ্বিতীয়টি নেই। মজার ব্যাপার হল কিছু নাছোড়বান্দা শ্রোতা-ভক্ত আছে যারা এই প্রিটেনডেড বোদ্ধাদের মাঝে মাঝে বেরসিক প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেন। এই যেমন বোদ্ধাদের কেউ একজন হয়ত কোন লেখকের বিষয়ে আলোচনার সিডর বইয়ে দিচ্ছেন মাঝখান থেকে হঠাৎ একজন জিজ্ঞেশ করে বসলেন- আচ্ছা ওমুক লেখকের একটা ভাল বইয়ের নাম বলুন তো ! ওমনি কট খেলেন আমাদের কথিত বোদ্ধা। কোন রকমে গাঁই গুই করে পাশ কাটালেও অত সহজে তারা কট খাওয়ার লোক নন। ভাব খানা এমন, আরে আমি এত বেশি রাইটারের বই পড়েছি যে হঠাৎ হঠাৎ সব গুলিয়ে ফেলি কোনটা কার লেখা। দাঁড়াও আমি ভেবে চিন্তে তোমাকে বলব।
…..তবে কি যুগটাই চাটুকার, ভন্ড আর ভান করা লোকদের?
হে সৃষ্টিকর্তা ! তুমি এদের হেদায়েত দান কর। নতুবা তুমি আরেকটু ক্রিয়েটিভ এন্ড কমার্শিয়াল হও। খোদার উপর খোদকারী করা এইসব আমড়া কাঠের ঢেঁকিদের যন্ত্রণায় আমাদের আর সইছে না।
Tariqul Islam's Fun Page Keep life happy with worship